পোস্টগুলি

মার্চ, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

জলন্ধর ও বৃন্দার উপাখ্যান। তুলসী এবং শালগ্রাম শিলার উৎপত্তি।

ছবি
                 'শিব পুরাণ' এবং 'দেবী ভাগবত পুরাণে' বর্ণিত কাহিনী অনুসারে একবার "দেবরাজ ইন্দ্র মহাদেবের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে কৈলাস পর্বতে আসছিলেন" । এই সময় মহাদেব ইন্দ্রের ধৈর্য পরীক্ষা করার জন্য 'অঘোরি রূপে' কৈলাসের পথে শুয়ে পড়লেন। ইন্দ্র 'অঘোরি' রূপে শিবকে দেখে চিনতে না পেরে তাকে পথ থেকে সরে যেতে আদেশ দিলেন, কিন্তু অঘোরি একটুও নরলেন না। বারবার বলার পরেও তখন অঘোরি সরলেন না তখন ইন্দ্র তাকে বলপূর্বক সরাতে চাইলেন। কিন্তু ইন্দ্রের সকল প্রকার অস্ত্র-শস্ত্র তার সামনে ব্যার্থ হয়, যার ফলে ইন্দ্র ক্রোধিত হয়ে বজ্র দ্বারা শিবের মস্তকে আঘাত করলেন। এতে মহাদেব ক্ষুব্ধ হয়ে তৃতীয় নয়ন দ্বারা ভষ্ম করতে উদ্যত হলে ইন্দ্র তাকে চিনতে পেরে শিবের সরনাপন্ন হলেন। এতে মহাদেব ইন্দ্রকে ক্ষমা করলেন এবং তার ক্রোধাগ্নি 'সমুদ্রে' নিক্ষেপ করলেন।              শিবের ক্রোধাগ্নি সমুদ্রে গিয়ে মিলিত হলে তার থেকে এক শিশুর জন্ম হয়। 'দৈত্যগুরু শুক্রাচার্য' এই শিশুর পালনের দায়িত্ব নিলেন। যেহেতু জল তাকে ধারন করছিল তাই তার নাম হ...

শ্রীকৃষ্ণের গায়ের রং নীল না কালো ? কৃষ্ণ এর অর্থ কালো, কিন্তু তাঁকে ছবি বা প্রতিমূর্তিতে নীল দেখানো হয় কেন ?

ছবি
  ভগবান শ্রীকৃষ্ণের গায়ের রং নীল না কালো এটা মানুষের চিরকালের কনফিউশন।       বিষ্ণুস্তোত্রে বলা হয়েছে,       শান্তাকারং ভুজগশয়নং পদ্মনাভং সুরেশং       বিশ্বাধারং গগনসদৃশং মেঘবর্ণম শুভাঙ্গম্।       অনুবাদ - সর্বদা শান্ত তাঁর রূপ, যিনি শেষনাগের শয্যায় শয়ন করেন, যার নাভি থেকে পদ্মের উৎপত্তি, যিনি সর্বদেবের অধীশ্বর, তিনি সমগ্ৰ বিশ্বের আধার, আকাশের ন্যায় অনন্ত এবং মেঘের সমান বর্ণ তার।       পুরাণ মতে ভগবান বিষ্ণুর গায়ের রং "বর্ষাদায়ী মেঘের সমান, অর্থাৎ ঈষৎ কালো, ঈষৎ নীল"।         ভগবান বিষ্ণু তাঁর সম্পূর্ণ কলা ধারণ করে কৃষ্ণ অবতার নিয়েছিলেন। তাই শ্রীকৃষ্ণের গায়ের রং আর ভগবান বিষ্ণুর গায়ের রং একই।           কৃষ্ণ মানে 'কালো' , আবার কৃষ্ণ মানে 'অনন্ত' । এই ব্রহ্মান্ড অন্তহীন এবং অন্ধকারময়। আর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অনন্ত বিশ্বব্রহ্মান্ড স্বরূপ, তাই তাঁকে কালো দেখায়, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো বর্ণ হয়না।           তাঁর নীল বর্ণের দেখানোর পে...

ভগবান শিব তথা মা দুর্গা কে ত্রিনয়ন এবং ত্রিনয়নী কেন বলা হয় ?

ছবি
                  মহাদেব এবং মা দুর্গার তিনটি চোখ তাই তাদেরকে ত্রিনয়ন ও ত্রিনয়নী বলা হয়। এই ত্রিনয়নের বিভিন্ন দিক আছে, একদিকে এটি বোঝায় যে মহাদেব তার ত্রিনয়ন দ্বারা ত্রিলোক অর্থাৎ "স্বর্গ, মর্ত, পাতালে" নজর রাখছেন। অপর দিকে এই ত্রিনয়ন দ্বারা তাকে ত্রিকালদর্শী বোঝানো হয়েছে, অর্থাৎ ' ভূত, ভবিষ্যত, বর্তমানের' কোনো কিছুই তার অজানা নয়।                শিব পুরাণে বর্ণিত একটি কাহিনী অনুসারে একবার দেবী পার্বতী পেছন থেকে মহাদেবের চোখ হাত দিয়ে চেপে ধরেন, যার ফলে সমগ্র পৃথিবীতে অন্ধকার নেমে আসে ( এর কারন হলো পুরান মতে মহাদেবের দুচোখে চন্দ্র ও সূর্য ব্যাস করেন )। অন্ধকার দূর করতে মহাদেব তখনই তার তৃতীয় নেত্র খুললেন যার ফলে চারিদিকে ভয়নক আগুন জ্বলে উঠল ( কারন তার তৃতীয় নয়নে অগ্নি বাস করে )। পুরানমতে মহাদেব তার তৃতীয় নেত্র দ্বারাই 'কামদেব' কে ভস্ম করেছিলেন।                  কাম না থাকলে সৃষ্টি কখনো সম্ভব না, কিন্তু মানুষ যখন কামান্ধ হয়ে যায় তখন সেই কামভাব তার ...

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ঠিক কতজনকে বিবাহ করেছিলেন ? তার কতগুলি সন্তান ছিল ?

ছবি
              ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পত্নীদের বিস্তারিত বিবরণ "শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরানের দশম স্কন্দে" দেওয়া হয়েছে। আমি সেখান থেকে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়ার চেষ্টা করছি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের '৮ জন' প্রধানা পত্নী ছিলেন, যাদেরকে 'অষ্টভার্যা' বলা হয়।  ১/ রুক্মিনী             রুক্মিনী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রথম পত্নী এবং 'বিদর্ভরাজ ভীষ্মকের' কন্যা ছিলেন। রুক্মিনীর অগ্ৰজ রুক্মি তার বিবাহ 'শিশুপালের' সাথে ঠিক করেছিলেন, কিন্তু রুক্মিনী ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কে নিজের পতি রূপে বরণ করতে চেয়েছিলেন। এই কারনে তিনি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কে গোপনে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পত্র পাঠিয়েছিলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ 'রুক্মিকে' পরাজিত করে রুক্মিনীকে হরন করে নিয়ে যান।  ২/ সত্যভামা                  সত্যভামার পিতা 'সত্রাজিত' দ্বারকা নগরীর সবথেকে ধনবান ব্যাক্তি ছিলেন। তার কাছে 'সূর্যদেবের' কাছ থেকে বরদানে পাওয়া দিব্য 'সামন্তক মনি' ছিলো যা প্রতিদিন '২০ মন' সোনা উৎপন্ন করতো। কিন্তু সত্রাজিতের সন্দেহ হয় যে শ্র...

শ্রীরামচন্দ্রের পিতা ছিলেন রাজা দশরথ। দশরথের পিতা কে ছিলেন ?

      দশরথের পিতার নাম ছিল 'অজ' । মহারাজ 'অজ' সূর্যবংশের 38 তম রাজা ছিলেন। তার পিতা ছিলেন  'মহারাজ রঘু' , যার নমে বংশের নাম রঘুবংশ হয়। অজ এর পত্নি 'ইন্দুমতী' বিদর্ভ রাজকুমারী ছিলেন। ইন্দুমতী তার পূর্বজন্মে 'হরিনি' নামক এক অপ্সরা ছিলো। হরিনি দেবরাজ ইন্দ্রের আদেশে 'মহর্ষি তৃণবিন্দুর' তপস্যা ভঙ্গ করে, যার ফল স স্বরূপ মহর্ষি তৃণবিন্দু তাকে পৃথিবীতে এক নস্বর নারী রূপে জন্ম নেওয়ার অভিশাপ দেন। সে এই অপরাধের জন্যে ক্ষমাপ্রার্থী হলে মহর্ষি বলেন "যেদিন আকাশ থেকে এক ফুলের মালা তার গলায় পড়বে সেদিন সেই মুহূর্তে সে শাপমুক্ত হবে।" এরপর হরিনি বিদর্ভ রাজকুমারী রূপে জন্ম গ্রহণ করে এবং যথা সময়ে তার স্বয়ংবর রচিত হলে সে মহারাজ অজ কে পতি রূপে বরণ করে। এর এক বছর পর দশরথের জন্ম হয়। দশরথের যখন মাত্র আট মাস বয়স তখন একদিন 'দেবর্ষি নারদ' অযোধ্যার উপর আকাশপথে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ তার হাত থেকে একটি ফুলের মালা পরে যায় যেটা রানী ইন্দুমতির গলাতেই পরে। সেই মুহূর্তে রানী ইন্দুমতি শপমুক্ত হয় এবং তার দিব্য অপ্সরা রূপে স্বর্গে চলে যায়। মহারাজ...

মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সময় অর্জুনের সঙ্গে যদি শ্রীকৃষ্ণের যায়গায় গৌতম বুদ্ধ থাকতেন তবে তিনি অর্জুনকে কি উপদেশ দিতেন ? তখন ও কি যুদ্ধ হতো ?

 প্রথমে আমরা শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার একটি শ্লোক স্মরণ করে নিই যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত। অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম।। ৭  পরিত্রানায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম। ধর্মসংর্স্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।। ৮ অর্থাৎ, যখন যখন ধর্মের গ্লানি ঘটে এবং অধর্মের অভ্যুত্থান ঘটে, তখন তখন "সাধুজনের রক্ষার জন্য, অধর্মের বিনাশের জন্য এবং ধর্মের পুনঃস্থাপনার জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।         ভগবান তার অবতারের সংখ্যা কখনই নিশ্চিত করে যাননি। কিন্তু পুরাণের বিবরণ অনুসারে ৬৪ অবতার, ৩৯ অবতার, ২৪ অবতারের তালিকা বানানো হয়েছে।  কিন্তু তার ১০ অবতারের তালিকা সবথেকে জনপ্রিয়। কারন এই ১০ অবতারে যেমন বিবর্তনবাদ কে দেখানো তেমন বিভিন্ন সময়ে সমাজ ব্যবস্থাকেও দেখানো হয়েছে। এই ১০ অবতার হলো - "মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহ, বামন, পরশুরাম, রাম, বলরাম, কৃষ্ণ ও কল্কি"। এটি সবথেকে ১০ অবতারের পুরনো তালিকা। কোনো কোনো তালিকায় "শ্রীকৃষ্ণ কে অষ্টম এবং গৌতম বুদ্ধ কে নবম" অবতার হিসেবে দেখানো হয়।          এখন বিবর্তনবাদের সাথে এর মিল দেখুন, "জগতে সর...

"হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে"-এই মহামন্ত্রের অর্থ কী ?

ছবি
  'হরে কৃষ্ণ' মহামন্ত্রটি সম্বোধন পদ একবচনে "হরে", "কৃষ্ণ", এবং "রাম" সংস্কৃত শব্দত্রয় দ্বারা রচিত। এটি একটি 'অনুষ্টুপ ছন্দের' (আট অক্ষর দ্বারা গঠিত চার পংক্তির শ্লোক) কবিতার স্তবক। হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে              বৈষ্ণব নাম-ব্যুৎপত্তি অনুসারে, "হরে" শব্দটিকে ভগবান বিষ্ণুর অপর নাম "হরি" সম্বোধনসূচক পদ হিসাবে ব্যক্ত করা যায়, যার অর্থ "যিনি জাগতিক মোহ মুক্ত করেন" । তাই এই হরে কৃষ্ণের মূল মন্ত্রের ‘হরে’ শব্দটি ‘হরা (অর্থাৎ, যা হরণ করে)' শব্দটির দ্যোতক। এটির মূর্তিরূপ হলেন পরম সত্ত্বা শ্রীকৃষ্ণের শাশ্বত সঙ্গী বা তার দিব্যলীলার শক্তি 'রাধা' ।                       কলি-সন্তরণ মন্ত্রে রাধার নাম আটবার উচ্চারিত হয়েছে। এটি দিব্যপ্রেমের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে ভগবানের অপর দুই রূপ "কৃষ্ণ (যিনি সবাইকে আকর্ষণ করেন) ও রাম (যিনি সকল আনন্দের কারণ)" নাম চারবার করে উচ্চারিত হয়েছে।                 ...

মা আদ্যাশক্তি মহামায়ার সৃষ্টি কিভাবে হলো ? মা আদ্যাশক্তি আসলে কে ?

ছবি
 শক্তি কখনো সৃষ্টি বা ধ্বংস হয় না তার কেবল রূপান্তর ঘটে। সেরকম ভাবেই আদ্যাশক্তি মহামায়া আদি-অন্তহীন, 'মার্কন্ডেয় পুরাণ' ও 'দেবী ভাগবতে' তাকে সৃষ্টি রহিত বলা হয়েছে এবং পরমেশ্বরী রূপে তার স্তব করা হয়েছে।             বিশ্বসৃষ্টির পূর্বে যখন সময়েরও অস্তিত্ব ছিল না তখন কেবল "পরমব্রহ্ম, পরমেশ্বর ভগবান শ্রীহরি বিষ্ণু" অনন্ত শয‍্যায় শয়ন করছিলেন। তখন আদিশক্তি তার নেত্রে 'যোগনিদ্রা' রূপে বিরাজ করেন। আর যখন ভগবান বিষ্ণুর নিদ্রা ভঙ্গ হয় তখন তিনি 'যোগমায়া' বা 'মহামায়া' নামে পরিচিত হন।                 আদিতে 'মধু-কৈটভের' হাত থেকে রক্ষা পাবার জন‍্য 'ব্রহ্মা' স্তব করলে সেই সময় ভগবান বিষ্ণুর 'নেত্র' থেকে তার প্রথম প্রকাশ ঘটে। এই কারনে তাকে 'বিষ্ণুমায়া' বলা হয়। বিষ্ণু পুরাণে তাকে 'পরম বৈষ্ণবী' বলা হয়েছে। যোগমায়া সাধারণত নিরাকার কিন্তু কখনো কখনো তিনি 'অষ্টভুজা দেবী' রূপে স্বাকার হন, এই অষ্টভুজা রূপেই তিনি 'কংসের কারাগারে' প্রকট হয়েছিলেন। দেবী আদি-পরাশক্তির সাধারণত তিন রূপ- 'মহাসরস...

কলিযুগের সংকেত

  কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের কয়েক বছর পরের ঘটনা। একদিন পঞ্চপাণ্ডব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে গিয়ে বলে " হে মধুসূদন, আমাদের মন বড় বিচলিত হচ্ছে, রাজকার্যে মন বসছে না তাছাড়া এমন কিছু সমস্যা আসছে যা আমাদের বিচার বুদ্ধির বাইরে।"           তাদের কথা শুনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন " কলিযুগ আসন্ন তাই কলির প্রভাবে এরূপ সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তোমরা সবাই ভ্রমণে বেরিয়ে যাও, প্রত্যেকে আলাদা আলাদা যাবে। তোমরা প্রত্যেকেই কিছু আশ্চর্য জিনিস দেখবে, যাও সন্ধ্যা বেলা আলোচনা হবে।" শ্রীকৃষ্ণের কথা মত সবাই আলাদা ভাবে বেরিয়ে যায় এবং সন্ধ্যেয় ফিরে এসে তারা আলোচনায় বসলো।              প্রথমে যুধিষ্ঠির বললো, সে পথে চলতে চলতে হটাৎ দেখে "একটি হাতি যার দুটি শুড়, সেই হাতিটি একটি সরু নলের এপার দিয়ে ঢুকে ওপার দিয়ে বেরিয়ে গেলো কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার যে তার লেজ তাতে আটকে গেলো।"               শ্রীকৃষ্ণ এর ব্যাখ্যায় বললেন, " তুমি যে হাতিটি দেখেছো তা শাসক শ্রেণীর প্রতীক, আর তার দুটি শুঁড়ের অর্থ কলিযুগে শাসক শ্রেণী প্...

দেবদাসী প্রথা

               মনে করা হয় যে এই দেবদাসী প্রথা 600 খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়েছিল। এই প্রথায় নবযুবতী কুমারী মেয়েদের ধর্মের কারনে দেবতার সাথে বিয়ে দিয়ে মন্দিরে দান করে দেওয়া হতো। কিন্তু কৌটিল্যের 'অর্থশাস্ত্রে'   এই প্রথার উল্লেখ পাওয়া যায়, যা প্রায় 300 খ্রী: পূ: রচিত, এর থেকে প্রমাণ হয় দেবদাসী প্রথা এর অনেক আগে থেকেই ছিল। অনেকের মতে ' গৌতম বুদ্ধের' সময় থেকেই এই প্রথা শুরু হয়েছিল। কিন্তু গুপ্ত আমলে ভারতবর্ষে সর্বাধিক দেবদাসী দেখা যায়।              দেবতার সাথে বিয়ে দেওয়া এই প্রকার মহিলাগণকেই দেবদাসী বলা হতো। দেবদাসী গণ মন্দিরের দেখাশোনা, পূজার সামগ্রী জোগাড় তথা মন্দিরে নৃত্য, গীত পরিবেশন করতো। মহাকবি কালীদাস রচিত মেঘদূতম্ কাব্যে এর উল্লেখ পাওয়া যায়।           মনে করা হয় যে দেবদাসী প্রথা চরম ব্যভিচারের কারণ হয়ে দাড়িয়েছিল। মন্দিরের পুরোহিত ও বিশেষ অতিথিগণ দেবদাসীদের শারীরিক শোষণ করতো বলে মনে করা হয়। কিন্তু অনেক ঐতিহাসিক এই ব্যভিচারের মতবাদকে অস্বীকার করে। প্রাচীন বৈদিক শা...

দেবী মনসার জন্ম কিভাবে হয়েছিল ?

ছবি
                 'শিবপুরাণ' মতে একবার "নাগমাতা কদ্রু পাতাল লোকে কন্যা সন্তান লাভের আশায় একটি মুর্তি নির্মাণ করেন" । সেই সময় 'মহাদেব' ও 'দেবী পার্বতী' সাপ রূপে জলকেলী করছিলেন, তখন মহাদেবের দেহ থেকে এক দিব্য তেজ নির্গত হয় এবং সেই তেই মুর্তিতে পড়তেই সেই মুর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়।                মহাদেবের মানসকন্যা হওয়ার কারনে নাগমাতা তার নাম রাখেন 'মনসা' । মুর্তি নির্মাণের সময় কদ্রু তার একটি চক্ষুদান করতে ভুলে গিয়েছিলেন যে কারণে দেবী মনসার একচোখ দৃষ্টিহীন।                   মহাভারত অনুসারে যখন 'মহারাজ জন্মেজয়' সর্পবিনাশ যজ্ঞ করছিলেন তখন "ঋষি জরৎকারুর পুত্র আস্তিক" সেখানে গিয়ে সেই যজ্ঞ এবং মহারাজ জন্মেজয়ের স্তুতি করেন। তার স্তুতিতে প্রসন্ন হয়ে জন্মেজয় যজ্ঞ বন্ধ করেন। এই ঋষি আস্তিকের মাতার নামও 'জরৎকারু' যিনি 'নাগকুলের দেবী' । এই জরৎকারুই 'দেবী মনসা' ।

গেরুয়া রঙের সাথে হিন্দুত্বের কী সম্পর্ক ?

ছবি
            সন্যাসীগণ গেরুয়া পরিধান করেন। এই গেরুয়া পরিধান করার কারন জানতে গেলে আগে সন্যাসীর গুন জানতে হবে।                 সন্যাসী সর্বদা একজন 'স্থিতপ্রজ্ঞ' ব্যাক্তি। এখন প্রশ্ন হলো স্থিতপ্রজ্ঞ কাকে বলে ? শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার দ্বিতীয় অধ্যায়ে ভগবান স্থিতপ্রজ্ঞ ব্যাক্তির গুন বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে গেরুয়া রঙ 'ত্যাগ, সাহস, শক্তি ও শৌর্যের' প্রতীক।             একজন সন্যাসী তার সমস্ত বাসনা ত্যাগ করেছেন, তার কিছুই পাওয়ার নেই। যেহেতু তার কিছু পাওয়ার আশা নেই তাই কিছু হারানোর ভয় ও নেই। যেহেতু তার কোনো ভয় নেই তাই তার সাহস এবং মানসিক শক্তির কোনো অভাব নেই। এই কারনে সন্যাসিগন গেরুয়া পরিধান করেন।

শ্রীকৃষ্ণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের আগে বচন দিয়েছিলেন তিনি অস্ত্র উঠাবেন না, কিন্তু মহামহিম ভীষ্মের দিকে রথের চাকা নিয়ে প্রহার করতে উঠেছিলেন। এতে কি শ্রীকৃষ্ণের বচন ভঙ্গ হয়েছিল ? হলে এর পিছনে যুক্তি কি ?

ছবি
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ 'অর্জুন এবং ভীষ্ম' কে শিক্ষা দেবার জন্য অস্ত্র ধারণ করেছিলেন।                      কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ পাণ্ডবদের অধিকারের যুদ্ধ ছিলো, কিন্তু তাদের সাথে যে অসংখ্য রথী-মহারথী এবং সাত অক্ষৌনি সেনা যুদ্ধ করেছিল তাদের কোনো ব্যাক্তিগত অধিকার বা স্বার্থ ছিলো না কিন্তু তবুও তারা অর্জুনের শৌর্য এবং পরাক্রমের ওপর বিশ্বাস করে ধর্মযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। তাদের রক্ষা করা অর্জুন ও অন্য পাণ্ডবদের কর্তব্য। কিন্তু অর্জুন তার এই কর্তব্য সম্পুর্ণ ভাবে পালন করছিল না।                      যুদ্ধের প্রথম দিন সম্মুখে আত্মীয়-স্বজনদের দেখে অর্জুন মোহঃগ্ৰস্থ হয়ে পড়লে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অমূল্য ভগবত গীতা জ্ঞান দান করে তাকে গ্লানি মুক্ত করেন। কিন্তু অর্জুনের গ্লানি অন্যদের ক্ষেত্রে দুর হলেও পিতামহ ভীষ্ম কে দেখলে অর্জুন মোহঃগ্ৰস্থ হয়ে পড়তেন। অর্জুন পিতামহ ভীষ্ম কে বধ করতে পারতেন না কিন্তু অর্জুন তার পূর্ণ শক্তি দিয়ে যুদ্ধ করলে ভীষ্মের পক্ষে প্রতিদিন ভয়াবহ সৈন্য সংহার করা সম্ভব হতো না। ভগবান শ...

পাপের গুরু

          এক পন্ডিত, দীর্ঘ বছর কাশীতে শাস্ত্র অধ্যয়ন করার পর নিজ গ্রামে ফিরে এলেন। ফিরে আসার পর গ্রামের এক কৃষক তাঁকে জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা পন্ডিতবাবু, আপনি তো অনেক লেখাপড়া করেছেন। আমাকে একটা প্রশ্নের উত্তর দেবেন কি?" পন্ডিত বললেন, "বল কি প্রশ্ন শুনি?" তখন কৃষক বলল, "আচ্ছা পন্ডিতবাবু, এই সংসারে যত পাপ হচ্ছে, এই সব পাপের গুরু কে?"              প্রশ্ন শুনে তো পন্ডিত হতচকিত হয়ে গেলেন। মনে মনে ভাবতে লাগলেন, "ভৌতিক আর আধ্যাত্বিক এর গুরু তো হয়। কিন্তু পাপেরও কি গুরু হয়? এটাতো আমার জানা ছিলনা। এটাতো আমার বোঝার আর অধ্যয়নের সীমার বাইরে।"               ততক্ষনাৎ কোন উত্তর না দিয়ে পাশ কাটিয়ে তিনি ঘরে চলে এলেন। ঘরে এসে ভাবতে লাগলেন, "আমার অধ্যয়ন এখনও তবে পূর্ণ হয়নি।" এই ভেবে তিনি আবার কাশী চলে গেলেন। সেখানে তাঁর গুরুদেবের সাথে সাক্ষাৎ করলেন।কিন্তু তিনিও কোন উত্তর দিতে পারলেন না।এরপর অনেক মুনি- ঋষি, আর গুরুর সাক্ষাৎ করলেন। তবুও কোন উত্তর পেলেন না। হঠাৎ একদিন এক পতিতার সাথে তাঁর দেখা হল। পন্ডিত কে চিন্তাগ্রস...

ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পীত বস্ত্র পড়ে থাকতে কেন দেখে যায় ? হলুদ এখানে কিসের প্রতিনিধিত্ব করে ? এবং কী বোঝায় ?

ছবি
"ईश्वरः परमः कृष्णः सच्चिदानन्द विग्रहः। अनादिरादि गोविन्दः सर्वकारण कारणम्॥" অর্থাৎ: "ভগবান শ্রীকৃষ্ণই পরমেশ্বর, তার রূপ শাশ্বত এবং আনন্দময়। তিনি অনাদির আদি এবং সকল কারনের কারন।" ওপরের শ্লোকটির মধ্যে কিছুটা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। "হলুদ রং মনকে সর্বদা আনন্দ দেয়" , আর ভগবান সচ্চিদানন্দ স্বরূপ। এই কারনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখে সর্বদা এক মধুর হাসি থাকে এবং আমরা তার মধুর 'মুরলীধর' রূপকেই পূজা করি। যেখানে অন্যান্য দেবদেবী তাদের অস্ত্র সহিত পূজিত হন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সেখানে তার মুরলী মনোহর রূপে পূজিত হন যা ভগবানের সচ্চিদানন্দ স্বরূপকেই দেখায়। হলুদ রং 'আশা এবং ভরসার' প্রতিনিধিত্ব করে। একজন অস্তিক এবং একজন নাস্তিকের এই আশা ভরসার পার্থক্যই থাকে। নাস্তিক যিনি বাস্তববাদী এবং বিজ্ঞানে বিশ্বাসী, প্রমান ছাড়া তিনি কিছুই বিশ্বাস করেন না, তাহলে ভগবানের প্রতি তার বিশ্বাস কেন থাকবে ? কিন্তু এখানে একটি ক্ষেত্রে সে আস্তিকদের চেয়ে দুর্বল। মানুষ যতই আত্মবিশ্বাসী হোক, সে যতই উন্নতি করুক কিছু পরিস্থিতি এমন থাকে যখন সবরকম চেষ্টা করেও মানুষ পরিস্থিতির স...

সনাতন ধর্মে মৃতদেহ কেন দাহ করা হয়?

        আমাদের সনাতন ধর্মে দাহ করা বাধ্যতমূলক নয়, সমাধি ও দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু দাহ করার পেছনে বেশ কিছু কারন আছে। সেই কারন গুলির মধ্যে তিনটি কারন আমি উল্লেখ করছি যার একটি ধর্মীয়, একটি সামাজিক ও একটি বৈজ্ঞানিক কারন। ধর্মীয় কারন -  সনাতন ধর্ম মতে জীব দেহ পঞ্চ তত্ত্ব দ্বারা নির্মিত হয়। এই পঞ্চ তত্ত্ব হলো " ক্ষিতি অর্থাৎ ভূমি, অপ অর্থাৎ জল, তেজ অর্থাৎ অগ্নি, মরুৎ অর্থাৎ বায়ু এবং ব্যোম অর্থাৎ আকাশ।"         শরীর ভূমি দ্বারা নির্মিত হয়, জল রক্ত রূপে শরীর কে স্বচল করে, বায়ু শ্বাস রূপে জীবন দেয়, অগ্নি তাপ রূপে শক্তি দেয় এবং আকাশ সর্বদা মাথার উপরে আশ্রয় দান করে। 'ভূদেবী, বরুণ, অগ্নি, পবন ও দেবরাজ ইন্দ্র'  এই পঞ্চ দেবতা দ্বারা পঞ্চ তত্ত্ব নিয়ন্ত্রিত হয়। মৃত্যুর পর দেবতাদের দান করা শরীর তাদের ফিরিয়ে দিতে হয়,সেই কারণে আমরা মৃতদেহ দাহ করি।        অগ্নিকে দেবতাদের মুখ বলা হয় তাই যজ্ঞের সমস্ত আহুতি ও নৈবেদ্য অগ্নির মাধ্যমেই দেবতাদের সমর্পণ করা হয়। সেই কারনে নশ্বর শরীর অগ্নি সংযোগের মাধ্যমে দেবতাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয...

মহাভারতে সবচেয়ে শক্তিশালী যোদ্ধা কে ছিলেন? অর্জুন, ভীষ্ম, কর্ণ নাকি অন্য কেউ?

ছবি
   নিঃসন্দেহ 'ভগবান শ্রীকৃষ্ণ'।           কিন্তু তিনি তো পরমব্রহ্ম, তিনি সর্বশক্তিমান তাই তার সাথে কারো তুলনা করা যুক্তিসঙ্গত হয় না। এই কারনে তাকে এর থেকে দুরে রাখাই ভালো।           সবথেকে শক্তিশালী কে এটা বলা বেশ কঠিন, তাই প্রথমে আগে তাদের শক্তির বর্ণনা দিয়ে দেখা যাক কে সবথেকে শক্তিশালী। 'ভীষ্ম, কর্ণ, অর্জুন নাকি ভীম', না অন্য কেউ ? কর্ণ ১/ কর্ণ 'সূর্যপূত্র' ছিলেন, সেই কারনে অত্যন্ত তেজস্বী যোদ্ধা ছিলেন। ২/ তিনি সূর্যতেজ সম্পন্য দিব্য 'কবচ ও কুন্ডল' সহ জন্ম গ্ৰহন করেছিলেন। ৩/ তিনি 'পরশুরামের' শিষ্য ছিলেন এবং পরশুরাম তাকে 'আগ্নেয়াস্ত্র, বরুনাস্ত্র, নাগাস্ত্র, ভার্গবাস্ত্র ও একপুরুষঘাতিনী' অস্ত্রের মতো বহু শক্তিশালী অস্ত্র দান করেছিলেন। ৪/ পরশুরাম কর্ণ কে 'ব্রহ্মাস্ত্র' চালনার শিক্ষা দিয়েছিলেন কিন্তু পরে তিনি কর্ণকে অভিশাপ দেন যার ফলস্বরূপ মহাভয় উপস্থিত হলে কর্ণ তার প্রয়োগ ভুলে যেতেন। ৫/ দেবরাজ ইন্দ্রকে কবচ ও কুন্ডল দান করে তিনি অমোঘ ' বৈজয়ন্তী অস্ত্র' লাভ করেন। ৬/ দুর্যোধনের স্ত্রী 'ভানুমতীর' হরনের সম...

পুরাণ মতে যুগ, মন্বান্তর এবং কল্পের বিবরন। বৈবস্বত মনুর পরিচয় এবং মৎস্য অবতার কথা।

ছবি
 মনু কে ? মনু অর্থাৎ 'মানব জাতির পিতা।'           সনাতন ধর্মে সময়কাল কে চার যুগে ভাগ করা হয়েছে। সেই চার যুগ হলো - "সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর এবং কলি। ৭১ চতুর্যুগে এক মন্বান্তর হয় (মন্বান্তর কথার অর্থ মনুর অন্তর) এবং ১৪ মন্বান্তরে এক কল্প হয়। এই এক কল্প সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার একদিন।" অর্থাৎ এক কল্পে ১৪ জন মনুর আবির্ভাব ঘটে। বর্তমানে 'শ্বেতবরাহ কল্প' চলছে, আর এই শ্বেতবরাহ কল্পের ১৪ জন মনু হলেন - "স্বয়ম্ভু, স্বারোচিশ, উত্তমী, তামস, ঋভু, চক্ষুস, বৈবস্বত, সাবর্ণি, ব্রহ্মসাবর্ণি, দক্ষসাবর্ণি, ধর্মসাবর্ণি, রুদ্রসাবর্ণি, বরুণসাবর্ণি এবং অগ্নিসাবর্ণি" (বিভিন্ন পুরাণে এদের ভিন্ন নাম)।           বর্তমানে আমরা "বৈবস্বত মন্বান্তরের ২৮ তম কলিযুগে" বাস করছি। এই বৈবস্বত মন্বান্তরের আরম্ভের গল্প এখানে লিখছি।           ব্রহ্ম পুরাণ মতে সূর্যদেবের দুজন পত্নি ছিল, যাদের নাম 'সংজ্ঞা এবং স্বর্ণা (ছায়া)'। এই দুই পত্নি থেকে সূর্যদেবের সাত পুত্র এবং চার কন্যা হয়, যাদের মধ্যে সবথেকে বড় ছিলেন 'সত্যব্রত।'       ...

মহাভারতের একলব্যের শেষ জীবন কীভাবে কেটেছিল ? দ্রোণাচার্যের কাছে গুরুদক্ষিণা দেওয়ার পর কি হয়েছিল তার ?

ছবি
             মহাভারতে একলব্যের সম্বন্ধে বিশেষ কিছু পাওয়া যায় না। তবে ' হরিবংশ পুরাণে'  তার জীবনের বেশ কিছু কাহিনী বর্ণিত আছে।              হরিবংশ পুরাণ মতে যাদব শ্রেষ্ঠ বসুদেবের ' দেবশ্রবা ' নামে এক ভাই ছিলো। এই দেবশ্রবার যখন পুত্র হয় তখন আকাশবাণী হয় "যদু বংশির হাতেই এর মৃত্যু হবে।" এই আকাশবাণী তে ভয় পেয়ে পুত্রের রক্ষা করার জন্য দেবশ্রবা তার পুত্রকে নদী তে ভাসিয়ে দেয়। ভাসতে ভাসতে সেই শিশু মগধ রাজ্যের বনে পৌঁছালো। সেই বনের নিষাদ রাজ 'হিরন্যধনু' তাকে নিজের পুত্র রূপে পালন করেন এবং তার নাম রাখেন 'একলব্য।' একলব্য যদু বংশের মতো মহান বংশের বংশোদ্ভূত হওয়ার কারনে সে এত প্রতিভাবান এবং দুর্ধর্ষ ধনুর্ধর ছিলো।                বহুকাল পরে যখন "ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কংস বধ করেন তারপর কংস বধের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য কংসের শ্বশুর মগধ সম্রাট জরাসন্ধ ১৭ বার মথুরা আক্রমণ করে এবং প্রত্যেক বারই গুরুতর ভাবে পরাজিত হয়।" জরাসন্ধ যখন জানতে পারে যে তার রাজ্যে এরকম একজন মহান ধনুর্ধর আছে তখন সে একল...

কৃষ্ণ কেন রাধাকে বিয়ে করেননি যেখানে তিনি এতগুলি বিবাহ করেছিলেন ? তবে কেন তার রাধার সাথে নাম নেওয়া হয় ?

ছবি
              শ্রীকৃষ্ণ রাধা কে বিয়ে করেননি কারণ রাধা নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি বা রক্তমাংসে গড়া চরিত্র নয়। রাধা বা রাধিকা 'রাধ ধাতু ' থেকে উৎপন্ন হয়েছে, আর এই রাধ ধাতু থেকেই 'আরাধনা' শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।              "যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনায় সর্বস্ব বিলিয়ে দেয় তিনিই রাধা।" অর্থাৎ ভগবানকে মনপ্রাণ দিয়ে ডাকা প্রত্যেক ভক্তই রাধা। রাধা এখানে সকল ভক্তদের প্রতিনিধিত্ব করছে।              কিন্তু রাধা যদি ভক্ত হয় তবে তার নাম ভগবানের আগে কেনো উচ্চারণ হয়, কারন ভক্ত তো সর্বদা ভগবানের অধীনে।             রাধা ভক্তদের মনের ভাব। পৃথিবীর আকর্ষণে যে বয়ে যায় তাকে বলে 'ধারা'‌। আর সকল আকর্ষণ মুক্ত করে যে ঈশ্বরের দিকে নিয়ে যায় তাকে বলে 'রাধা'।।            অর্থাৎ ভক্তের মনে ভগবানের প্রতি যে 'ভক্তিভাব' সেই ভাবই 'রাধা।' এই কারনে আমরা বলি 'রাধাকৃষ্ণ'। রাধার নাম সর্বদা শ্রীকৃষ্ণের আগে নেওয়া হয়, কারন সেই ভক্তিকে মাধ্যম করেই আমরা ভগ...