মহাভারতে সবচেয়ে শক্তিশালী যোদ্ধা কে ছিলেন? অর্জুন, ভীষ্ম, কর্ণ নাকি অন্য কেউ?
নিঃসন্দেহ 'ভগবান শ্রীকৃষ্ণ'।
কিন্তু তিনি তো পরমব্রহ্ম, তিনি সর্বশক্তিমান তাই তার সাথে কারো তুলনা করা যুক্তিসঙ্গত হয় না। এই কারনে তাকে এর থেকে দুরে রাখাই ভালো।
সবথেকে শক্তিশালী কে এটা বলা বেশ কঠিন, তাই প্রথমে আগে তাদের শক্তির বর্ণনা দিয়ে দেখা যাক কে সবথেকে শক্তিশালী। 'ভীষ্ম, কর্ণ, অর্জুন নাকি ভীম', না অন্য কেউ ?
কর্ণ
১/ কর্ণ 'সূর্যপূত্র' ছিলেন, সেই কারনে অত্যন্ত তেজস্বী যোদ্ধা ছিলেন।
২/ তিনি সূর্যতেজ সম্পন্য দিব্য 'কবচ ও কুন্ডল' সহ জন্ম গ্ৰহন করেছিলেন।
৩/ তিনি 'পরশুরামের' শিষ্য ছিলেন এবং পরশুরাম তাকে 'আগ্নেয়াস্ত্র, বরুনাস্ত্র, নাগাস্ত্র, ভার্গবাস্ত্র ও একপুরুষঘাতিনী' অস্ত্রের মতো বহু শক্তিশালী অস্ত্র দান করেছিলেন।
৪/ পরশুরাম কর্ণ কে 'ব্রহ্মাস্ত্র' চালনার শিক্ষা দিয়েছিলেন কিন্তু পরে তিনি কর্ণকে অভিশাপ দেন যার ফলস্বরূপ মহাভয় উপস্থিত হলে কর্ণ তার প্রয়োগ ভুলে যেতেন।
৫/ দেবরাজ ইন্দ্রকে কবচ ও কুন্ডল দান করে তিনি অমোঘ 'বৈজয়ন্তী অস্ত্র' লাভ করেন।
৬/ দুর্যোধনের স্ত্রী 'ভানুমতীর' হরনের সময় তিনি একাই সকল ক্ষত্রিয়বর্গকে পরাজিত করেন।
৭/ দুর্যোধনের 'বৈষ্ণব যজ্ঞের' সময় তিনি দুর্যোধনের জন্য দিগ্বিজয় করেন।
৮/ মহাবলি "ঘটোৎকচকে বাসবী শক্তি (বৈজয়ন্তী অস্ত্র)" প্রয়োগ করে তিনিই বধ করেন।
৯/ তিনি 'যুধিষ্ঠির, ভীম, নকুল ও সহদেব' কে পরাজিত করেন।
ভীম
১/ ভীম 'পবনপুত্র' ছিলেন, সেই কারনে তিনি জন্ম থেকেই অসীম বলশালী ছিলেন।
২/ দুর্যোধন চক্রান্ত করে ভীমকে বিষপান করিয়ে জ্বলে ফেলে দেওয়ার পর 'নাগরাজ বাসুকীর' কৃপায় তিনি দশ সহস্র হস্তির বল পেয়েছিলেন।
৩/ তিনি একজন মহান 'গদাধারী ও ধনুর্ধারী' ছিলেন। তিনি 'দ্রোণাচার্য, কৃপাচার্য ও বলরামের' কাছ থেকে অস্ত্র শিক্ষা লাভ করেন।
৪/ 'হিডিম্ব রাক্ষস, বক রাক্ষস, মগধ সম্রাট জরাসন্ধ, বিরাটের সেনাপতি মহাবলি কীচক, ১০৫ উপকীচক এবং ধৃতরাষ্ট্রের শতপুত্র' মহাবলী ভীমের হতেই নিহত হয়।
৫/ মহাভারতে 'মহর্ষি বৈশম্পায়ন' উল্লেখ করেছে, ভীম সর্বদাই ভয়ংকর কার্য সিদ্ধির জন্য তৎপর থাকতেন, এই কারণে বর্নাবর্তে যতুগৃহ দাহ করার সময় ভীম পান্ডবদের প্রধান অবলম্বন ছিলেন। দুর্গম গিরিপথ পার করে দ্রৌপদীর জন্য সহস্রদল পদ্ম আনতে ভীমই গিয়েছিলেন।
৬/ ভীম কখনও কোনো কিছুতে ভয় অথবা গ্লানি অনুভব করতেন না, এই কারণে অশ্বত্থামা দ্বারা সন্ধান করা নারায়ণ অস্ত্রের সামনে সবাই মাথা নত করলেও তিনি মাথা নত করেননি। আর তিনি যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই নিজের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে যুদ্ধ করে গেছেন, যেখানে অর্জুন পিতামহ ভীষ্মের সামনে মোহগ্রস্তো হয়ে যেতো।
৭/ ভীম শত্রুদের জন্য অত্যন্ত হিংস্র ছিলেন, তাই দুঃশাসনের রক্তপান করতে তিনি দ্বিধাবোধ করেননি। সম্মুখ যুদ্ধে যেখানে কর্ণ ভীমকে মাত্র একবার পরাজিত করেছিল সেখানে ভীম কর্ণকে বহুবার পরাজিত করেছিল।
৮/ কর্ণ ভীমের হাত থেকে 'দুঃশাসন' কেও রক্ষা করতে পারেননি।
অর্জুন
১/ ইনি "নারায়নের এক অখণ্ড অংশ এবং দেবরাজ ইন্দ্রের ঔরসপুত্র" ছিলেন। অর্থাৎ 'ভগবান বিষ্ণু ও দেবরাজ ইন্দ্রের' মিলিত শক্তিতে অর্জুনের উৎপত্তি, তাই স্বভাবতই অর্জুন অসীম শক্তির অধিকারী।
২/ ইনি 'গুরু দ্রোণের' প্রধান শিষ্য ছিলেন সেই সাপেক্ষে গুরু দ্রোণ তাঁকে "ব্রহ্মাস্ত্র ও ব্রহ্মাস্ত্রের থেকে চারগুন শক্তিশালী ব্রহ্মশির অস্ত্র" দান করেছিলেন। এছাড়াও অসংখ্য অস্ত্র ছিলো অর্জুনের অস্ত্র ভান্ডারে যা বলে শেষ করা সম্ভব নয়।
৩/ অর্জুন সকল প্রকার অস্ত্র-শস্ত্র, সকল প্রকার ব্যূহ রচনা ও ধ্বস্ত করার বিদ্যা জানতেন।
৪/ অর্জুন 'সব্যসাচী' ছিলেন অর্থাৎ তার দুই হাত সমান রূপে দক্ষ এবং তিনি রাত্রি বেলাতেও সমান দক্ষতায় যুদ্ধ করতেন।
৫/ যুধিষ্ঠির ও ভীম তার অগ্ৰজ হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে তারা সর্বদা অর্জুনের আদেশ মেনে চলতেন। এই কারনে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তাকেই সেনাপতি গন এবং সর্ব সেনাপতির অধিপতি নিযুক্ত করা হয়।
৬/ দ্রোপদের বিরুদ্ধে দুর্যোধন যখন তার ভ্রাতাগন, কর্ণ ও সেনা সহ পরাজিত হয় তখন অর্জুন কেবল ভীম, নকুল ও সহদেব কে সাথে নিয়েই দ্রোপদকে বন্দি করে আনেন। উল্লেখ্য, এই সময় কর্ণ তার কবচ-কুন্ডল সহ দ্রোপদের কাছে পরাজিত হন কিন্তু অর্জুন তাকে পরাজিত ও বন্দি করেন গান্ডীব ধনুক, অক্ষয় তুন ও কপিধ্বজ রথ ছাড়াই।
৭/দ্রৌপদী স্বয়ংবরে ইনি কর্ণ সহ সকল ক্ষত্রিয়বর্গকে পরাজিত করেন। এই সময় কর্ণের কাছে তার কবচ-কুন্ডল ছিলো কিন্তু অর্জুন তখনও গান্ডীব ধনুক, অক্ষয় তুন ও কপিধ্বজ রথ লাভ করেননি।
৮/ এরপর ইনি "অগ্নিদেব কর্তৃক গান্ধীব ধনুক, অক্ষয় তূণ এবং কপিধ্বজ নামের আশ্চর্য রথ" উপহার পেয়েছিলেন যার দ্বারা তিনি দেবরাজ ইন্দ্র কে পরাজিত করেন।
৯/ তিনি নাগ কন্যা "উলুপিকে বিবাহ করে বরদান লাভ করেন যার ফলে তিনি জলে অজেয় হন এবং সকল জলচর জীবের ওপর তার আধিপত্য হয়।"
১০/ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন ভীম ও অর্জুনকে সঙ্গে নিয়ে যখন মগধ সম্রাট 'জরাসন্ধের' কাছে ব্রাক্ষণ বেশে যান তখন তিনি জরাসন্ধ কে মল্লযুদ্ধের জন্য তাদের তিন জনের মধ্যে যে কোনো একজনকে বেছে নিতে বলেন। অর্থাৎ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অর্জুনের বাহুবলের ওপরও সম্পুর্ণ বিশ্বাস ছিলো।
১১/ তিনি তপস্যা দ্বারা মহাদেবকে প্রসন্ন করে মহাবিনাশী 'পাশুপাত অস্ত্র' লাভ করেন।
১২/ তিনি স্বর্গে গিয়ে অসংখ্য দিব্যাস্ত্র লাভ করেন।
১৩/ তিনি মহাশক্তিশালী 'নিবাতকবচ ও কালকেও অসুরদের' একাই বিনষ্ট করেন যারা সংখ্যায় তিন কোটি ও দেবগনেরও অবধ্য ছিলো।
১৪/ যুধিষ্ঠিরের অশ্বমেধ যজ্ঞের সময় অর্জুন দিগ্বিজয় করেন।
১৫/ পান্ডবদের বনবাস কালে দুর্যোধন গন্ধর্বদের দ্বারা বন্দি হলে কর্ণ কিন্তু তাকে রক্ষা করতে পারেননি, তখন অর্জুনই গন্ধর্বদের পরাজিত করে দুর্যোধন কে মুক্ত করেন।
১৬/ বিরাট যুদ্ধে অর্জুন 'মোহিনী অস্ত্রের' প্রয়োগ করে একাই ভীষ্ম, দ্রোণাচার্য, কর্ণ সহ সকল কৌরব সৈন্য কে পরাজিত করেন।
১৭/ ভীষ্ম কে সরশয্যা অর্জুন প্রদান করেন। 'ভগদত্ত ও সুশর্মা সহ সংশপ্তকদেরও' অর্জুন একাই পরাজিত করেন।
১৮/ স্বয়ং দ্রোণাচার্য দুর্যোধন কে বলেন যে তিনি অর্জুন কে পার করে যুধিষ্ঠির কে বন্দি করতে পারবেন না, সেই কারনে তিনি অর্জুন কে যুদ্ধ থেকে সরিয়ে তারপর চক্রবূহ রচনা করেন।
১৯/ যুদ্ধের চতুর্দশ তম দিনে অর্জুন কৌরব সেনার এমন ভয়াবহ বিনাশ করেন যে তা দেখে যুধিষ্ঠির বলেন "মনেহয় অর্জুন বীরগতি প্রাপ্ত হয়েছে আর তার জায়গায় স্বয়ং কেশব যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন, তিনি হয়তো আজই এই যুদ্ধ সমাপ্ত করে দেবেন তাই এই মহাবিনাশ।"
২০/ অশ্বত্থামা ব্রহ্মশির অস্ত্র প্রয়োগ করলে অর্জুনকেও বাধ্য হয়ে ব্রহ্মশির অস্ত্র প্রয়োগ করতে হয়, কিন্তু অর্জুন তা ফিরিয়ে নিতে সক্ষম ছিলেন যা অশ্বত্থামা পারতেন না।
২১/ সিন্ধু রাজ জয়দ্রথ যখন পঞ্চপান্ডবদের পরাজিত করার উদ্দেশ্যে মহাদেবের কাছে বর প্রার্থনা করে তখন মহাদেব তাকে "একদিনের জন্য অর্জুন বাদে জগতের সকল যোদ্ধার অজেয় হওয়ার বর দেন।" অর্থাৎ অর্জুনের থেকে বেশি শক্তি দেওয়ার সাধ্য স্বয়ং মহাদেবেরও নেই।
২২/ মহাদেবের বরদান না দেওয়ায় পেছনে অবশ্য একটি কারন ছিলো। শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরান মতে "ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন গোবর্ধন পর্বত ধারণ করে দেবরাজ ইন্দ্রের দর্প চূর্ণ করেন তখন দেবরাজ ইন্দ্র ভগবানের কাছে ক্ষমা চাওযার পর নিজের পুত্র অর্জুনের দায়িত্ব শ্রীকৃষ্ণ কে নেওয়ার অনুরোধ করেন। তখন শ্রীকৃষ্ণ ইন্দ্রকে বরদান দিলেন যতদিন আমার এই রূপ থাকবে ততদিন অর্জুন অপরাজিত থাকবে।" হয়তো এই কারনেই মহাদেবে জয়দ্রথ কে অর্জুনকে পরাজিত করার বর দেননি।
ভীষ্ম
১/ গঙ্গাপূত্র ভীষ্ম 'দ্যু' নামক বসুর অবতার এবং পরশুরাম শিষ্য ছিলেন।
২/ সকল প্রকার অস্ত্র-শস্ত্র ও সকল প্রকার যুদ্ধে তিনি অতুলনীয় ছিলেন।
৩/ পিতা 'শান্তনুর' কাছ থেকে 'ইচ্ছামৃত্যুর' বরপ্রাপ্ত, যাকে এক প্রকার অমরত্বও বলা যেতে পারে।
৪/ 'কাশীরাজের' তিন কন্যা 'অম্বা, অম্বিকা ও অম্বালিকার' হরণের সময় তিনি একাই সকল ক্ষত্রিয়বর্গকে পরাজিত করেছিলেন।
৫/ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তিনি একাই প্রতিদিন কমপক্ষে 'দশহাজার' সৈন্য বিনাশ করতেন।
৬/ অর্জুনও তাকে কখনো সরাসরি পরাজিত করতে পারেননি। এমনকি অর্জুন ছাড়া বাকি চারজনকে বধ করার জন্য তার চারটি বান যথেষ্ট ছিল।
৭/ বিরাট যুদ্ধে অর্জুন সমগ্ৰ কৌরব সেনাকে মোহিনী অস্ত্র দ্বারা মুর্ছিত করলেও ভীষ্ম মুর্ছিত হননি, তিনি মুর্ছিত হওয়ার অভিনয় করেছিলেন। অর্থাৎ মোহিনী অস্ত্রের প্রভাব তার ওপর পড়েনা।
৮/ ভগবান 'পরশুরামের' বিরুদ্ধে যখন তিনি যুদ্ধে অবতীর্ণ হন তখন সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও পরশুরাম তাকে পরাজিত করতে পারেননা। তখন ঋষিগণ প্রকট হয়ে 'পরশুরামকে' বলেন "এই গঙ্গাপুত্র ভীষ্ম অষ্টবসুর একজন, সে অপরাজেয়, সুতরাং তোমার যুদ্ধ থেকে বিরত হওয়াই শ্রেয়।"
৯/ তিনি কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধে এমন ভয়াবহ বিনাশ করেন যে স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বাধ্য হন তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করতে।
১০/ তিনি যুদ্ধে প্রথম ১০ দিন সেনাপতি ছিলেন, তার সেনাপতি থাকাকালীন 'ভীম' ধৃতরাষ্ট্রের একজন পুত্রকেও বধ করতে পারেননি।
১১/ মহাবলি 'ঘটোৎকচকে' তিনিই দমিয়ে রেখেছিলেন, কিন্তু তিনি যুদ্ধ থেকে সরতেই ঘটোৎকচ ভয়াবহ হয়ে ওঠেন।
১২/ শেষে তার মৃত্যুর উপায় না পেয়ে পঞ্চপান্ডব তারই স্মরনাপন্ন হয়েছিলেন, এবং তার বলা উপায়েই 'শিখন্ডিকে' সামনে রেখে অর্জুন তাকে শরশয্যা প্রদান করেন।
এই পর্যন্ত দেখলে বোঝা যায় এই চার জনের মধ্যে সবথেকে শক্তিশালী "ভীষ্ম>অর্জুন>ভীম>কর্ণ।"
কিন্তু মহাভারতে ভীষ্মের থেকেও শক্তিশালী একজন যোদ্ধা ছিলেন।
বর্বরিক
মূলত 'স্কন্দ পুরাণে' বর্বরিকের উল্লেখ পাওয়া যায়।
বর্বরিক "ভীমের পৌত্র ও ঘটোৎকচের পুত্র ছিলেন, বর্বরিকের মাতার নাম মৌরবি।"
"বর্বরিক নবদূ্র্গার উপাসনা করে তিনটি অমোঘ বাণ লাভ করেছিলেন। এই বাণগুলী দ্বারা সে যাদের চিহ্নিত করবে, তারা যত সংখ্যকই হোক সেই বাণ তাদের বিনাশ করে আবার তার কাছে ফিরে আসবে।"
বর্ববিকের পিতামহী 'হিডিম্বাকে' তিনি কথা দিয়েছিলেন যে দুর্বল পক্ষের হয়েই তিনি যুদ্ধ করবেন। কারন হিড়িম্বা ভেবেছিলেন পান্ডবপক্ষ দুর্বল। কিন্তু এটাই হলো তার কাল। পান্ডবগন যখন জানতে পারলেন যে বর্বরিক তার অমোঘ বাণ দ্বারা এক নিমেষে যুদ্ধ সমাপ্ত করতে পারে তখন তারা খুবই আনন্দিত হলেন।
কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাকে দেখালেন যে তার প্রথম বাণ সন্ধানের ফলে সম্পুর্ণ কৌরব সেনার নাশ হয়ে গেলেও 'ভীষ্ম, কৃপাচার্য ও অশ্বত্থামা' সুরক্ষিত থাকতেন ফলে তখন কৌরব পক্ষ দুর্বল হয়ে যাবে আর বর্বরিক তখন তার প্রতিজ্ঞার কারনে দ্বিতীয় বাণ দ্বারা পান্ডব পক্ষের বিনাশ করতে বাধ্য হবে। যার পরিনাম হবে শুধুই বিনাশ।
এই পরিনাম দেখার পর স্বেচ্ছায় তার অমোঘ বাণ দ্বারা নিজের মস্তক "ভগবান শ্রীকৃষ্ণের চরনে অর্পন করেন।" অবশ্য অর্পন করার আগে তিনি শেষ ইচ্ছা হিসেবে বলেন যে তিনি সম্পুর্ণ যুদ্ধ দেখতে চান।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তখন তার কাটা মস্তক জীবিত করে একটি পাহাড়ে স্থাপন করলেন। তিনি বললেন "হে মহান বর্বরিক তোমার এই মস্তক সর্বদা জীবিত থাকবে এবং তুমি সবকিছু দেখবে। কলিযুগে তোমার পূজা হবে এবং তোমার পূজা আমার পূজা বলেই আমি গ্ৰহন করবো। তুমি এই রূপে আমার নামেই পরিচিত হবে, সকলে তোমায় খাটুশ্যাম নামে ডাকবে আর তুমি তোমার শরনাপন্ন সকল দুর্বলের সহায় হবে।"
এই বর্বরিক ভগবানের মুখ থেকে শ্রীমদ ভগবত গীতা শুনেছিলেন এবং ভগবানের বিশ্বরূপও দর্শন করেছিলেন।
বর্তমানে রাজস্থানে তার মন্দির আছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন