সূর্য বংশীয় রাজা এবং চন্দ্র বংশীয় রাজা কাদের বলা হয় ?


সূর্যবংশ 


             'ব্রহ্মপুরাণ' এবং 'বিষ্ণুপুরাণ' মতে আদিকালে ভগবান বিষ্ণুর নাভি থেকে ব্রহ্মার উৎপত্তি হয়। ব্রহ্মা ভগবান বিষ্ণুর আদেশে সৃষ্টিকার্য আরম্ভ করেন এবং তার "মন থেকে মহার্ষি মরিচির" জন্ম হয় (সপ্তর্ষির একজন)। মরিচি "কর্দম ঋষির কন্যা কলা" কে বিবাহ করেন এবং তাদের পুত্র 'মহার্ষি কশ্যপ' নামে খ্যাত হয়।


              মহর্ষি কশ্যপ বিবাহ দক্ষরাজের ১৭ কন্যার সাথে হয় এবং তার প্রথম পত্নি অদিতীর গর্ভে 'বিবস্বানের (সূর্যদেব)' জন্ম হয়।

              সূর্য দেবের সাত পুত্র এবং চার কন্যা হয় যাদের মধ্যে 'বৈবস্বত মনু' সবথেকে বড়ো ছিলেন। বৈবস্বত মনু 'সপ্তম মন্বান্তরের' প্রথম মানব এবং তার নামানুসারে এই মন্বান্তরের নাম হয় 'বৈবস্বত মন্বান্তর'। এই বৈবস্বত মন্বান্তরের "২৮ তম কলিযুগে" বর্তমানে আমরা বাস করছি।


বৈবস্বত মনুর পুত্র হয় 'ঈক্ষাকু'। ঈক্ষকু 'অযোধ্যায়' তার রাজধানী স্থাপন করেন এবং তার বংশের নাম হয় 'সূর্যবংশ'। এই ঈক্ষাকুর 'কুক্ষি' নামে এক পুত্র হয়।

কুক্ষির সাত পুরুষ পর 'শ্রাবস্তি' নামে এক রাজা হলেন এবং তিনি শ্রাবস্তি নামে এক রাজ্য স্থাপন করেন। শ্রাবস্তির পুত্র হয় 'বৃহদশ্ব'

বৃহদশ্বের আটপুরূষ পর রাজা হলেন 'যুবনাশ্ব'। যুবনাশ্বের পুত্র হয় 'মান্ধাতা'। এই মান্ধাতা কেবলমাত্র তার পিতার শরীর থেকে জন্মগ্রহন করেছিলেন। মান্ধাতার পর তার পুত্র 'মুচুকন্দ' সিংহাসনে বসেন।

মুচুকন্দের পাঁচ পুরুষ পর 'রাজা সত্যব্রত' সিংহাসনে বসলেন, যে পরে "আদিবিদ্রোহি ত্রিশঙ্কু" নামে খ্যাত হন। ত্রিশঙ্কুর পুত্র হন মহারাজ 'হরিশ্চন্দ্র'। তিনি 'মহর্ষি বিশ্বামিত্র' কে সর্বশ্ব দান করে বিখ্যাত হয়েছিলেন। হরিশচন্দ্রের পুত্র 'রোহিতাশ্ব' এবং রোহিতাশ্বের পুত্র 'হরিৎ' হলেন।

হরিৎ এর পাঁচ পুরুষ পর 'বাহুক' সিংহাসনে বসলেন। বাহুকের পুত্র 'মহারাজ সগর' শতাশ্বমেধ যজ্ঞ করেন। তিনি সমুদ্র কে তার পুত্র রূপে গ্ৰহন করেন এবং তার নামানুসারে সমুদ্রের নাম হয় 'সাগর''সগরের' পুত্রের নাম হয় 'অসমঞ্জস'। অসমঞ্জসের পুত্র 'অংশুমান' এবং অংশুমানের পুত্র 'দিলীপ' হলেন।

দিলীপের পুত্র হয় 'ভগীরথ'। ভগীরথ তপস্যা করে 'দেবী গঙ্গা' কে মর্তলোকে আনেন, সেই কারনে গঙ্গার নাম হয় 'ভাগিরথী'

ভগীরথের ১৪ পুরুষ পর রাজা 'অরন্য' সিংহাসনে বসলেন। রাবন যখন দিগ্বিজয় যাত্রা করে তখন অরন্য রাবনের হাতে মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার সময় রাবনকে অভিশাপ দিলেন, - "ঈক্ষাকু বংশীর হাতেই রাবনের মৃত্যু হবে, স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু এই বংশে অবতীর্ণ হয়ে রাবনকে বধ করবেন।"

অরন্যের তিন পুরুষ পর মহাপ্রতাপী 'রঘু' সিংহাসনে বসলেন যার নামে বংশের নাম হয় 'রঘুবংশ'

রঘুর পুত্র 'অজ' এবং অজর পুত্র 'দশরথ' হলেন।

দশরথের চার পুত্র রূপে ভগবান বিষ্ণু চার খন্ডে অবতীর্ণ হলেন - " রাম, ভরত, লক্ষন এবং শত্রুঘ্ন"



চন্দ্রবংশ


আদিতে ভগবান বিষ্ণুর নাভি থেকে পরমপিতা ব্রহ্মার উৎপত্তি হয়।

ব্রহ্মা তার নেত্র থেকে 'মহর্ষি আত্রিকে' সৃষ্টি করেন, আত্রি সপ্তর্ষির একজন।

মহর্ষি আত্রির পত্নি 'অনুসুয়ার' গর্ভে 'চন্দ্রদেবের' জন্ম হয় এবং চন্দ্র দেব এর 'বুধ' নামক পুত্র হয়, বুধ নবগ্রহের একজন।

বুধের পুত্র মহারাজ 'পুরুরবা' পৃথিবীতে 'চন্দ্রবংশ' স্থাপন করেন।

পুরুরবার 'আয়ু', আয়ুর 'নহুশ' এবং নহুষের 'যযাতি' নামক পুত্র হয়।

যযাতির পাঁচ পুত্র হয় তাদের নাম - ' যদু, তুর্বসু, দ্রুহু, অনু ও পুরু।'

যযাতির জেষ্ঠপুত্র যদুর থেকে 'যদু বংশ' এবং কনিষ্ঠ পুত্র পুরু থেকে 'পুর বংশের' স্থাপনা হয়। "এই যদু বংশেই দ্বাপর যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অবতীর্ণ হন"। যযাতির অন্য তিন পুত্রের বংশ কালক্রমে বিলুপ্ত হয়।

পুরুর বংশে তার বহু পুরুষ পরে 'দুষ্মন্ত' নামে এক রাজা হয়, দুষ্মন্তের পর তার পুত্র 'ভরত' চক্রবর্তী সম্রাট হন। এই ভরতের নামেই আমাদের দেশের নাম হয় 'ভারতবর্ষ'।

ভরতের বংশে অনেক পুরুষ পর 'হস্তি' নামে এক রাজা হলেন, তার নামানুসারে তার রাজ্যের নাম হয় 'হস্তিনাপুর'।

হস্তির চার পুরুষ পর 'কুরু' নামক রাজা হলেন, যার তপঃভূমি 'কুরুক্ষেত্র' নামে এবং বংশ 'কুরুবংশ' নামে খ্যাত হয়।

কুরুর সাত পুরুষ পর 'প্রতীপ' নামে এক রাজা হলেন, প্রতীপের পুত্র ছিলেন 'শান্তনু'

শান্তনুর তিন পুত্রের নাম 'ভীষ্ম, চিত্রাঙ্গদ ও বিচীত্রবীর্য।'

বিচীত্রবীর্যের দুই পুত্র 'ধৃতরাষ্ট্র ও পান্ডু।' যাদের থেকে শত কৌরব ও পঞ্চপান্ডব গনের জন্ম হয়।




মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কৃষ্ণ কেন রাধাকে বিয়ে করেননি যেখানে তিনি এতগুলি বিবাহ করেছিলেন ? তবে কেন তার রাধার সাথে নাম নেওয়া হয় ?

ধর্ম পৃথিবীতে কিভাবে এলো ?