দেবদাসী প্রথা

              মনে করা হয় যে এই দেবদাসী প্রথা 600 খ্রিস্টাব্দে শুরু হয়েছিল। এই প্রথায় নবযুবতী কুমারী মেয়েদের ধর্মের কারনে দেবতার সাথে বিয়ে দিয়ে মন্দিরে দান করে দেওয়া হতো। কিন্তু কৌটিল্যের 'অর্থশাস্ত্রে' এই প্রথার উল্লেখ পাওয়া যায়, যা প্রায় 300 খ্রী: পূ: রচিত, এর থেকে প্রমাণ হয় দেবদাসী প্রথা এর অনেক আগে থেকেই ছিল। অনেকের মতে 'গৌতম বুদ্ধের' সময় থেকেই এই প্রথা শুরু হয়েছিল। কিন্তু গুপ্ত আমলে ভারতবর্ষে সর্বাধিক দেবদাসী দেখা যায়।

             দেবতার সাথে বিয়ে দেওয়া এই প্রকার মহিলাগণকেই দেবদাসী বলা হতো। দেবদাসী গণ মন্দিরের দেখাশোনা, পূজার সামগ্রী জোগাড় তথা মন্দিরে নৃত্য, গীত পরিবেশন করতো। মহাকবি কালীদাস রচিত মেঘদূতম্ কাব্যে এর উল্লেখ পাওয়া যায়।

          মনে করা হয় যে দেবদাসী প্রথা চরম ব্যভিচারের কারণ হয়ে দাড়িয়েছিল। মন্দিরের পুরোহিত ও বিশেষ অতিথিগণ দেবদাসীদের শারীরিক শোষণ করতো বলে মনে করা হয়। কিন্তু অনেক ঐতিহাসিক এই ব্যভিচারের মতবাদকে অস্বীকার করে।

প্রাচীন বৈদিক শাস্ত্র অনুসারে দেবদাসী সাত প্রকারের ছিলো।

১/দত্তা - যে মন্দিরে ভক্তিভাবের কারনে স্বেচ্ছায় দেবতার সেবায় নিজেকে অর্পণ করতো তাদের দত্তা বলা হতো। এদেরকে দেবীর মর্যাদা দেয়া হতো।

২/বীকৃতা - যে অর্থের পরিবর্তে নিজেকে বিক্রি করে দিত। এরা মন্দির পরিষ্কারের কাজ করতো।

৩/ভৃত্যা - যে পরিবারের ভরণ পোষণের জন্য মন্দিরে নৃত্য, গীত পরিবেশন করতো

৪/ভক্তা - এরা নিজের বাড়িতেই থাকতো মন্দিরে কাজের উদ্দেশ্যে যেত।

৫/হৃতা - রাজরাজারা এদেরকে অন্য রাজ্য থেকে হরণ করে মন্দিরে দিন করে দিত। এরা প্রকৃত পক্ষেই দাসী ছিলো।

৬/অলংকারা - রাজরাজাগণ সর্বগুন সম্পন্ন যেসব নারীগণকে মন্দিরে উপহার দিত তাদের অলংকারা বলা হতো।

৭/নগরী - বিধবা এবং আশ্রয়হীন মহিলারা আশ্রয়ের জন্য মন্দিরে নিজেকে অর্পণ করতো। এদেরকে নগরী বলা হতো।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

কৃষ্ণ কেন রাধাকে বিয়ে করেননি যেখানে তিনি এতগুলি বিবাহ করেছিলেন ? তবে কেন তার রাধার সাথে নাম নেওয়া হয় ?

ধর্ম পৃথিবীতে কিভাবে এলো ?

সূর্য বংশীয় রাজা এবং চন্দ্র বংশীয় রাজা কাদের বলা হয় ?