পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২১ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কাল ভৈরব কে ? তাঁর জন্মরহস্য কী ?

ছবি
                 কালভৈরব শিবের এক উগ্র রুপ। কালভৈরবকে 'পাপীদের দন্ডদাতা'  রূপে দেখানো হয়। "তার এক হাতে শুল, এক হাতে দন্ড, হাতে মুন্ড থাকে ও এক হাত আশির্বাদ মুদ্রায় থাকে" । কালভৈরবের বাহন 'কালো কুকুর' । তীর্থরাজ প্রয়াগে কালভৈরবের মন্দির আছে। কালভৈরবকে মূলত অঘোরিদের দেবতা বলে মনে করা হয়।                 এবার আসি কালভৈরবের জন্ম কাহিনিতে।  'শিব পুরান ও লিঙ্গ পুরান' মতে 'ব্রহ্মা' যখন জগতের প্রথম নারী 'শতরূপাকে' সৃষ্টি করলেন তখন ব্রহ্মা নিজেই তার রূপে মুগ্ধ হয়ে তার দিকে এগিয়ে যান। শতরূপা সেটা বুঝতে পেরে ব্রহ্মলোক থেকে পৃথিবীতে পালিয়ে যান এবং ব্রহ্মার হাত থেকে লোকানোর জন্য শতরূপা বিভিন্ন প্রাণীর রূপ নিতে থাকেন, তখন ব্রহ্মাও সেই সেই রূপে তার পিছু নেয়। তখন শিব ব্রহ্মার এই ভাবে দেখে 'শতরূপাকে' 'ব্রহ্মার' হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নিজের 'নখ' থেকে কালভৈরবকে সৃষ্টি করেন এবং  "কালভৈরব ব্রহ্মার পঞ্চম মস্তক ছিন্ন করেন" । ব্রহ্মার চার মাথা চার বেদের জ্ঞ্যান সম্পন্য কিন্তু এই পঞ্চম মস্তক কামাবৃত...

শ্রীকৃষ্ণই যদি একমাত্র পরমেশ্বর ভগবান হন, তবে বেদে শ্রীকৃষ্ণকে সর্বশ্রেষ্ঠ ভগবান বলা তো দূরের কথা, শ্রীকৃষ্ণের কোনো উল্লেখ পর্যন্ত নেই কেন ?

ছবি
       প্রশ্নটি করার জন্য ধন্যবাদ                         ভগবান শ্রীকৃষ্ণই যে পরমেশ্বর সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। মাহাভারতের 'আনুশাসন পর্বের' আন্তরগত 'দানধর্ম পর্বের ১৭৮ তম আধ্যায়ে স্বয়ং 'মাহাদেব' তার মাহিমা বর্ণনা করেছেন।  শ্রীমদ্ভাগবত গীতা ৪র্থ অধ্যায়: জ্ঞানযোগ श्रीभगवानुवाच | यदा यदा हि धर्मस्य ग्लानिर्भवति भारत | अभ्युत्थानमधर्मस्य तदात्मानं सृजाम्यहम् || 7|| परित्राणाय साधूनां विनाशाय च दुष्कृताम् | धर्मसंस्थापनार्थाय सम्भवामि युगे युगे || 8|| আনুবাদ - হে ভারত ! যখনই ধর্মের অধঃপতন হয় এবং অধর্মের অভ্যূত্থান হয়, তখন আমি নিজেকে প্রকাশ করে অবতীর্ণ হই। সাধুদের পরিত্রাণ করার জন্য এবং দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ করার জন্য এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।                 সানাতন ভগবান শ্রীহরি বিষ্ণু 'মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহাদি' ভিন্ন ভিন্ন রূপে অবতীর্ণ হয়ে ধর্মস্থাপনা করেন। "বৈবস্বত মন্বান্তরের ২৮ তম দ্বাপরে" তিনি সম্পূর্ণ কলায় অবতীর্ণ হন, ...

ধর্ম পৃথিবীতে কিভাবে এলো ?

ছবি
                যখন মানুষ কোনো ঘটনার কোনো যুক্তি অথবা কারন খুজে পায় না তখনই সে ধরে নেয় যে সেই ঘটনার পেছনে কোনো অলৌকিক শক্তির হাত আছে। তখন মানুষ সেই অলৌকিক শক্তির হাত থেকে থেকে রক্ষা পাবার উদ্দেশ্যে তাকে বিভিন্ন ভাবে খুশি করার চেষ্ঠা করে। মানুষের এইরূপ ধারণা থেকেই ধর্মের উৎপত্তি হয়।                ধর্মের উৎপত্তি আজ থেকে প্রায় কয়েক লক্ষ বছর আগে হয়, যার সম্বন্ধে একশো শতাংশ সঠিক তথ্য না পাওয়া গেলেও আন্দাজ তো করা যেতেই পারে।               পাথর প্রস্থর যুগে মানুষ যখন পাথর দিয়ে অস্ত্র-সস্ত্র বানিয়ে দলবদ্ধ ভাবে শিকার করতো, এরকম সময় একটা দল শিকারের উদ্দেশ্যে একটি সাদা ছাগল কে তাড়া করেছে, কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পর কোনো কারণে ছাগলটাকে তারা আর দেখতে পেলো না কিন্তু তার বদলে অনেক বড়ো শিকার তারা পেয়ে গেলো। এখন থেকে তাদের ধারণা হলো যে সাদা ছাগল একটি পবিত্র জীব, তাই পর্যাপ্ত খাদ্য পেতে গেলে তাকে পূজো করা উচিত। এর পর থেকে সাদা ছাগল শিকারের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।  ...

সূর্য বংশীয় রাজা এবং চন্দ্র বংশীয় রাজা কাদের বলা হয় ?

সূর্যবংশ               'ব্রহ্মপুরাণ' এবং 'বিষ্ণুপুরাণ' মতে আদিকালে ভগবান বিষ্ণুর নাভি থেকে ব্রহ্মার উৎপত্তি হয়। ব্রহ্মা ভগবান বিষ্ণুর আদেশে সৃষ্টিকার্য আরম্ভ করেন এবং তার "মন থেকে মহার্ষি মরিচির" জন্ম হয় (সপ্তর্ষির একজন)। মরিচি "কর্দম ঋষির কন্যা কলা" কে বিবাহ করেন এবং তাদের পুত্র 'মহার্ষি কশ্যপ' নামে খ্যাত হয়।               মহর্ষি কশ্যপ বিবাহ দক্ষরাজের ১৭ কন্যার সাথে হয় এবং তার প্রথম পত্নি অদিতীর গর্ভে 'বিবস্বানের (সূর্যদেব)' জন্ম হয়।               সূর্য দেবের সাত পুত্র এবং চার কন্যা হয় যাদের মধ্যে 'বৈবস্বত মনু' সবথেকে বড়ো ছিলেন। বৈবস্বত মনু 'সপ্তম মন্বান্তরের' প্রথম মানব এবং তার নামানুসারে এই মন্বান্তরের নাম হয় 'বৈবস্বত মন্বান্তর' । এই বৈবস্বত মন্বান্তরের "২৮ তম কলিযুগে" বর্তমানে আমরা বাস করছি। বৈবস্বত মনুর পুত্র হয় 'ঈক্ষাকু' । ঈক্ষকু 'অযোধ্যায়' তার রাজধানী স্থাপন করেন এবং তার বংশের নাম হয় 'সূর্যবংশ'। এই ঈক্ষাকুর 'কুক্ষি' নামে এক পুত্র হয়। কুক্ষি...

মহর্ষি কাশ্যপের পরিচয়

                         ঋষি কশ্যপের পরিচয় "রামায়ণ, মহাভারত, ব্রহ্মপুরাণ, শিবপুরাণ এবং শ্রীমদ্ভাভগবত মহাপুরাণে" পাওয়া যায়। কিন্তু তাঁঁর ও অন্যান্য সমস্ত ঋষিদের বিস্তর বিবরণ পাওয়া যায় 'বিষ্ণুপুরাণে'। এবার আসি ঋষি কশ্যপের পরিচয়ে।                   সৃষ্টির আদিতে ব্রহ্মা তাঁঁর "মুখ থেকে অঙ্গিরা, নেত্র বা চোখ থেকে অত্রি, প্রাণ থেকে বশিষ্ট, মন থেকে মরীচি, কর্ণ বা কান থেকে পুলস্ত, নাভি থেকে পুলহ ও বাহু থেকে ক্রতু ঋষিকে সৃষ্টি করেন"। পুরাণে এই সাতজন ঋষিকেই "সপ্তর্ষি " বলা হয়েছে। এর পর ব্রহ্মা তাঁর "ত্বক থেকে ভৃগু ঋষি ও বৃদ্ধাঙ্গুলী থেকে দক্ষরাজকে সৃষ্টি করেন"। এরপর ব্রহ্মার মস্তক থেকে 'অর্ধনারীশ্বর' প্রকট হয়, ব্রহ্মা একে মাঝখান থেকে দুভাগ করলে তাঁঁর পুরুষ ভাগ থেকে স্বায়ম্ভুব "মনু ('মনু' অর্থাৎ মানব জাতির পিতা) ও নারী ভাগ থেকে শতরূপার" উৎপত্তি হয়। শতরূপা অর্থাৎ "শতশত রূপ যার (প্রকৃতি)", ইনিই জগতের প্রথম নারী। এরপর ব্রহ্মা এদের সকলকে সাংসারিক জীবন যাপন করার আদেশ দেন। ...